ভারতের আসাম রাজ্যে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান। স্থানীয় সময় রবিবার সকালে পশ্চিম আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১৪০ বিঘা (প্রায় ১৫৩ হেক্টর) জমিতে এই অভিযান চালায়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, উচ্ছেদের শিকার পরিবারের অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলমান।
গোয়ালপাড়া জেলা কমিশনার প্রদীপ তিমুং জানিয়েছেন, অভিযানটি অন্তত দুই দিন চলবে। তিনি বলেন,
‘আমরা ৫৮০টি পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছি। পুরো এলাকা দহিকাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্গত, যেখানে স্থানীয়রা অবৈধভাবে বসতি গড়ে তুলেছিল।’

আসামে চলতি বছর জুড়েই চলছে এমন উচ্ছেদ অভিযান। রাজ্য সরকার বলছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ‘এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জনমিতিক আগ্রাসন’ রোধ করা।
তবে সমালোচকদের মতে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ আসলে বাংলাভাষী মুসলমানদের পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ।
গত জুলাই ও আগস্ট মাসে এসব অভিযান সবচেয়ে তীব্র রূপ নেয়। পরে খ্যাতনামা শিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বদলে যাওয়ায় উচ্ছেদ কার্যক্রম কিছুদিন থেমে ছিল।
রবিবারের অভিযানটি হলো গত দুই মাসে আসামের সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযান।
এর আগে ১২ জুলাই পাইকান সংরক্ষিত বনে ১৪০ হেক্টর বনভূমি এবং ১৬ জুন হাসিলা বিল এলাকায় ৬০০ পরিবারের বসতি উচ্ছেদ করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে নতুন করে উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,
‘অনেকে ভেবেছিল, সরকার চাপে পড়ে অভিযান বন্ধ করে দেবে। কিন্তু আমি কাউকে খুশি করতে কাজ করি না। ৯ ও ১০ নভেম্বর দহিকাটায় অভিযান হবে—এটা আমি আগেই জানিয়েছি।’
আসাম ফরেস্ট সার্কেলের বন সংরক্ষক সানিদেও ইন্দ্রদেও চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযানে ১ হাজারেরও বেশি বনকর্মী ও পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন,
‘শুধু গোয়ালপাড়াতেই আমরা এ বছর ৯০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুনরুদ্ধার করেছি।’
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলোতে দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, এবং প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে তারা “নির্বাচিত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি” হিসেবে দেখছেন।