শীতের আগে ভয়াবহ সংকট: রুশ হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ

লেখক: ডিএল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউক্রেনার্গো জানিয়েছে, অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে রবিবার ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, টানা কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে মস্কো। গত শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ধারাবাহিক হামলায় শত শত ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এই হামলায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ, তাপ ও পানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সেন্টনেনার্গো জানায়, তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা “শূন্যে” নেমে গেছে। যদিও জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎস থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু হয়েছে, তবুও কিয়েভসহ একাধিক এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং চলবে বলে সতর্ক করেছে ইউক্রেনার্গো।

ইউক্রেনের জ্বালানি উপমন্ত্রী সভিতলানা গ্রিনচুক শনিবার রাতে স্থানীয় টেলিভিশনে বলেন,

“রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এমন তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে, যা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এত বেশি জ্বালানি স্থাপনায় আঘাতের ঘটনা আগে ঘটেনি।”

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানিয়েছেন, রাশিয়ার ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল পশ্চিমাঞ্চলের দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, যা খমেলনিতস্কি ও রিভনে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে শক্তি সরবরাহ করে। তিনি বলেন,

“রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ইউরোপের পারমাণবিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।”

তিনি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)-র জরুরি বৈঠক আহ্বানের আহ্বান জানান এবং চীন ও ভারতকে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অব্যাহত হামলায় ইউক্রেন শীতের আগে ভয়াবহ তাপ ও বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে পারে। কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ হামলায় দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের অর্ধেক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক ওলেক্সান্দর খারচেঙ্কো বলেন,

“যদি কিয়েভের প্রধান দুটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তিন দিনের বেশি বন্ধ থাকে এবং তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যায়, তাহলে রাজধানীতে ‘প্রযুক্তিগত বিপর্যয়’ ঘটবে।”

অন্যদিকে, রুশ হামলার জবাবে ইউক্রেনও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার তেল মজুত কেন্দ্র ও শোধনাগারে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে, যাতে মস্কোর জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হয়।

আরও পড়ুন  গাজার সুড়ঙ্গ থেকে বেসামরিকদের উদ্ধারে মধ্যস্থতায় নামল তুরস্ক

রোববার সকালে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।

চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের এই নতুন অধ্যায়ে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।