টেকসই অর্থনীতির জন্য উদ্যোক্তা বিকাশ ও অবকাঠামো বিনিয়োগে জোর বিশেষজ্ঞদের

লেখক: ডিএল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

উদ্যোক্তা সৃজন ও অবকাঠামো উন্নয়নেই টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি

নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও অবকাঠামো উন্নয়ন যেকোনো দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এই দুটি উপাদান কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। উদ্যোক্তারা অর্থনীতির ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেন—তাঁরা নতুন ব্যবসা শুরু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ান, আয় বাড়ান এবং বেকারত্ব কমান। অন্যদিকে, উন্নত অবকাঠামো ব্যবসা ও শিল্পকারখানার জন্য সেই ভূমি প্রস্তুত করে, যেখানে এই উদ্যোক্তা উদ্যোগগুলো টিকে থাকতে পারে।

সম্প্রতি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি প্রার্থী ও ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম

বাংলাদেশে এখন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ উদ্যোক্তা রয়েছেন, যার মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোগকে টেকসইভাবে বিকাশে সহায়তা দেওয়া গেলে, অনেকেই পরে বৃহৎ উদ্যোক্তায় পরিণত হতে পারবেন। কারণ বাংলাদেশের বাজার এখন ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ভোক্তাশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে আগের চেয়ে অনেক বেশি সম্ভাবনাময়।

তাঁদের মতে, উদ্যোক্তা মানে এমন এক শ্রেণি যারা আত্মোন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। সাধারণত সরকারি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার যেখানে প্রায় ৫ শতাংশ, সেখানে বেসরকারি খাতের অবদান ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উৎস।

বাংলাদেশে এখন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ উদ্যোক্তা রয়েছেন, যার মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোগকে টেকসইভাবে বিকাশে সহায়তা দেওয়া গেলে, অনেকেই পরে বৃহৎ উদ্যোক্তায় পরিণত হতে পারবেন। কারণ বাংলাদেশের বাজার এখন ১৭ কোটি মানুষের বিশাল ভোক্তাশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে আগের চেয়ে অনেক বেশি সম্ভাবনাময়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতায় ভারতের পেঁয়াজ বাণিজ্য সংকুচিত

নীতির ধারাবাহিকতা ও অবকাঠামোই প্রধান চ্যালেঞ্জ

আহসান খান চৌধুরী মনে করেন, “আমাদের প্রতিটি নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য থাকে দেশের শিল্পকে শক্তিশালী করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তবে এজন্য সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন দ্রুত ও ফলপ্রসূ হতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা ও সহজ অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ জরুরি।”

অন্যদিকে, ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বেসরকারি খাতই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। উদ্যোক্তাদের আস্থা না ফিরলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব নয়।” তাঁর মতে, আস্থার সংকট, নীতির অস্থিরতা ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বড় অন্তরায়। “করনীতির পূর্বানুমানযোগ্যতা ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত না করলে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পারেন না,” বলেন তিনি।

অবকাঠামো দুর্বলতা ও অর্থায়ন সংকট

ব্যবসায়ী নেতা সাকিফ শামীম বলেন, “উদ্যোক্তারা জাতির অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, কিন্তু তারা দুর্বল অবকাঠামোর অদৃশ্য বাঁধনে আবদ্ধ।” বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহ, শিল্পাঞ্চলে অপর্যাপ্ত সুবিধা এবং বন্দরের ধীর গতির কার্যক্রম উদ্যোক্তাদের ব্যয় বাড়ায় এবং উৎপাদন মন্থর করে।
তিনি আরও বলেন, “নতুন উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ পান না। জামানতের অভাব, প্রশাসনিক জটিলতা এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা অনেক তরুণ উদ্যোক্তাকে নিরুৎসাহিত করছে।”

এ ছাড়া সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। “অনেক তরুণ এখনো নিরাপদ চাকরিকে উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে করে। ব্যর্থতার ভয় সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত—এই মানসিকতা না বদলালে উদ্যোক্তা সংস্কৃতি বিকশিত হবে না।”

সমাধান: সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই প্রবৃদ্ধি

অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন—
১️⃣ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বন্দর আধুনিকীকরণে।
২️⃣ ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াকে সরলীকরণ করে ওয়ান-স্টপ সেবা কার্যকর করতে হবে।
৩️⃣ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালের সুযোগ বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন  পরিবেশ বান্ধব খাতে বিপুল বিনিয়োগে আগ্রহী চিন

তাঁদের অভিমত, উদ্যোক্তারা অর্থনীতির প্রকৃত চালক। এই চালককে গতিশীল রাখতে হলে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সহজ অর্থায়ন, এবং একটি সহায়ক প্রশাসনিক কাঠামো। তাহলেই প্রবৃদ্ধির সুফল পৌঁছাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়, আর অর্থনীতি পাবে টেকসই ভিত্তি।