দেশে বর্তমানে কোনো ধরনের ডলার সংকট নেই জানিয়ে যত প্রয়োজন, তত আমদানি করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলার–রেট বাজারভিত্তিক করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “আমরা এখন যত ইচ্ছে আমদানি করতে পারি। ব্যাংকিং খাতে আমদানির কোনো বাধা নেই। কেউ যদি আমদানি করতে না পারে, সেটা তার নিজস্ব সমস্যা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আমদানি করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ ও টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব।
রমজান নিয়েও শঙ্কা নেই
ড. মনসুর বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে কোনো চাপ বা সংকট তৈরির সম্ভাবনা নেই। সাম্প্রতিক সময়ে অধিকাংশ পণ্যের আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। অতীতে অর্থপাচারের কারণে আমদানির তথ্য ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হতো, এখন সেই প্রবণতা কমে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যাংক খাতের দুরাবস্থা ও খেলাপি ঋণ
গভর্নর জানান, খেলাপি ঋণ নিয়ে তাদের পূর্বাভাস ছিল ২০ শতাংশ; কিন্তু তা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। বন্ড মার্কেট, স্টক মার্কেট এবং বিশেষত বিমা খাতের দুর্বল অবস্থা ব্যাংক খাতকে আরও চাপে ফেলছে। এসব অনাস্থা কাটাতে পারলে ব্যাংক খাত স্বস্তি পাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিপোজিট বাড়ছে, তবে নীতিগত বদল দরকার
তিনি আরও বলেন, একসময়ে ব্যাংক খাতে ডিপোজিট নেমে গিয়েছিল ৬ শতাংশে, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। সরকারের ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ কমলে ডিপোজিট আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন গভর্নর।
অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাত সংকটে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও একীভূত ব্যাংকিং কার্যক্রম
গভর্নর জানান, নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান দ্রুত অবসায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী ধারার পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ আগামী সপ্তাহ থেকেই কার্যক্রম শুরু করবে।