রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে পুরোপুরি নির্বাপণে আরও কিছু সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার।

অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে হাহাকার করে উঠেছেন ঘরহারা মানুষ। আগুনের তীব্রতায় নিজের ঘরের কাছে যেতে না পারায় অনেকেই দূর থেকে অসহায়ভাবে বিলাপ করছেন। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন নিকটস্থ খোলা মাঠে, হাতে যা পেয়েছেন তাই নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়েছেন।
কড়াইল বস্তির বাসিন্দা মো. হানিফ জানান, তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ আগে আগুন লাগে। খবর পাওয়ার ১০–১৫ মিনিট পর ছুটে এসে দেখেন তার সমস্ত ঘর পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, “আল্লাহর রহমত যে স্ত্রী বাসায় ছিল না, তাই বেঁচে গেছে।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা জয়নুলও রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে দৌড়ে আসেন, কিন্তু ঘরের কাছে যেতে পারেননি। স্ত্রী ও সন্তানরা নিরাপদে আছে জেনে সাময়িক স্বস্তি পেলেও ঘর পুড়ে যাওয়ার খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
লাভলী নামে আরেক নারী জানান, “আমার সব পুড়িয়ে শেষ। সাত বছর ধরে কষ্টে কষ্টে টিভি, ফ্রিজসহ যা কিনেছিলাম—সব শেষ।”
গার্মেন্টসকর্মী নাসিমা বেগম বলেন, বোনের ফোনে খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন—“শুনেছি ঘরটা পুড়ে ছাই। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।”
অগ্নিকাণ্ডের পর পুরো কড়াইল বস্তি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্ধকারে মোবাইল ফোনের আলো, টর্চ লাইট আর মোমবাতির সাহায্যে চলাফেরা করছেন স্থানীয়রা। যাদের যা সামান্য মালামাল বাঁচাতে পেরেছেন, সেটুকু নিয়েই নিরাপদ জায়গায় ছুটছেন তারা।
ওয়ারলেস মোড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
ঘরহারা অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন মহাখালী টিএন্ডটি মাঠে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে দেখা যায়, দল বেঁধে বসে আছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। শীত থেকে বাঁচতে কেউ কেউ কাগজ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা জামিলা জানান, তিনি বাসাবাড়িতে কাজ করেন। ঘটনা সময় তিনি, তার মেয়ে ও জামাই বাড়িতে ছিলেন। স্বামী ও ছেলে ছিলেন কর্মস্থলে। আগুনের সময় স্বামীর ফোন চুরি হয়ে যায়। তিনি বলেন, “ঘরের সব পুড়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারিনি।”