মুসলিম মেয়র নির্বাচনে ট্রাম্পের ক্ষোভ, নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি রিপাবলিকানদের

লেখক: ডিএল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রকে ঘিরে বিতর্ক, রিপাবলিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি

নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করে উগান্ডায় ফেরত পাঠানোর দাবি তুলেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দাবি আইনি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং কার্যত অসম্ভব।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বক্তৃতায় বলেন, “নিউইয়র্কের মতো মহান শহর সন্ত্রাসী মতাদর্শে বিশ্বাসী এক কমিউনিস্টের হাতে যাচ্ছে।” তিনি হুমকিও দেন, মামদানি দায়িত্ব নিলে শহরের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেবেন।

রিপাবলিকানদের অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়, মামদানি ২০১৭ সালের একটি র‍্যাপ গানে ‘হোলি ল্যান্ড ফাইভ’ নামের মুসলিম দাতব্যকর্মীদের সমর্থন করেছিলেন। পরে তাঁদের হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাক্‌স্বাধীনতার আওতায় পড়া বিষয়, সন্ত্রাসে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নয়।

এরপর রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলেস ও র‍্যান্ডি ফাইন অভিযোগ করেন, মামদানি নাগরিকত্বের আবেদনকালে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং “সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততা” গোপন করেছেন। ওগলেস বলেন, “যদি নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় তিনি প্রতারণা করে থাকেন, তাহলে তা বাতিল করে তাঁকে উগান্ডায় ফেরত পাঠানো উচিত।”

তবে ফ্যাক্ট–চেকিং ওয়েবসাইট পলিটিফ্যাক্ট জানিয়েছে, মামদানি নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে কোনো তথ্য গোপন করেননি। তিনি ১৯৯৮ সালে সাত বছর বয়সে উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০১৮ সালে বৈধভাবে নাগরিকত্ব পান।

আইন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল বা ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ প্রক্রিয়া কেবল আদালতের আদেশে সম্ভব এবং সরকারের পক্ষে প্রমাণ করতে হয় যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। অভিবাসন আইনজীবী জেরেমি ম্যাককিনি বলেন, “এ ধরনের মামলা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন। মামদানির ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রমাণ নেই।”

রিপাবলিকানদের অভিযোগের ভিত্তিতে বলা হয়, মামদানি ২০১৭ সালের একটি র‍্যাপ গানে ‘হোলি ল্যান্ড ফাইভ’ নামের মুসলিম দাতব্যকর্মীদের সমর্থন করেছিলেন। পরে তাঁদের হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাক্‌স্বাধীনতার আওতায় পড়া বিষয়, সন্ত্রাসে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নয়।

আরও পড়ুন  আসামে ফের উচ্ছেদ অভিযান, লক্ষ্য বাংলাভাষী মুসলমানরা

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)’র সদস্যপদ গোপনের অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিএসএ একটি বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন, এটি কোনো কমিউনিস্ট দল নয়। ফলে সদস্যপদ উল্লেখ না করাও নাগরিকত্ব প্রাপ্তিতে বাধা নয়।

আইন বিভাগের অধ্যাপক ক্যাসান্দ্রা রবার্টসন বলেন, “এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও সফল হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। এটি মূলত রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ।”

এদিকে নিউইয়র্ক ইয়াং রিপাবলিকান ক্লাব ১৪তম সংশোধনী ব্যবহার করে মামদানিকে মেয়র পদে বসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, মামদানি “রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত” ও “হামাসপন্থী”। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা কেবল যুদ্ধকালীন শত্রুদের সহায়তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে নয়।

গত অক্টোবরে এমএসএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রচারণা আসলে ইসলামবিদ্বেষ থেকে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখনো ইসলামোফোবিয়া আছে। মুসলমানদের অধিকার নিয়ে অনেকে অস্বস্তি বোধ করেন।”

‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল— সাধারণত নাৎসি অপরাধী বা সন্ত্রাসবাদের দায়ে দোষী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগ করা হয়। পলিটিফ্যাক্ট–এর তথ্যমতে, মামদানির বিরুদ্ধে এমন কোনো অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।