মনকে শান্ত রাখুন: ঈর্ষা থেকে মুক্তির সহজ কৌশল

লেখক: ডিএল ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

বাঙালির এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে—যখন কেউ দেয়াল টপকে পালাতে চায়, বাকিরা ঠিকই তার পা ধরে রাখে। এই আচরণকে বলা হয় ‘পরশ্রীকাতরতা’—একটি বিশেষ বাংলা শব্দ, যার সঠিক প্রতিশব্দ বিশ্বের অন্য ভাষায় নেই। মূল ভাব হলো, অন্যের ভালো দেখে মনের অশান্তি তৈরি হওয়া।

ঈর্ষা শুধুই মন খারাপ করার কারণ নয়, এটি শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতারও জন্ম দিতে পারে। ওসিডি থেকে সিজোফ্রেনিয়া পর্যন্ত নানা সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় নিজের ভেতরের শান্তির—মনের ক্রমাগত অশান্তি, সিদ্ধান্তহীনতা এবং সহজ বিষয়কেও জটিল মনে করা। শেক্সপিয়ার ঈর্ষাকে বলেছিলেন ‘গ্রীন আইড মনস্টার’—সবকিছুর ওপর বিষের সবুজ পর্দা টেনে দেয়।

এই সমস্যা দুই কারণে জন্ম নেয়—নিজের ভেতরের চাওয়া এবং সমাজের চাপ। সমাজ বলে, সবকিছুতে প্রথম হতে হবে, সকল ব্র্যান্ডেড জিনিস পেতে হবে। এই চাপের বাইরে আসা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। সহজ সমাধান হলো—সৎ ও সমঝদার মানুষের সঙ্গে থাকা, যারা বৈষয়িক প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নয়, এবং নিজের মানসিকতা বদলানো।

ঈর্ষার শক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি ধ্বংসাত্মক না হয়ে সহায়ক শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, পরীক্ষায় সাফল্য বা কাজে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। অন্যকে পেছনে ফেলার পরিবর্তে নিজের দক্ষতা বাড়ানোর প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করুন।

নিজের মন ও মানসিক শান্তি বজায় রাখার জন্য কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও তুচ্ছ বিষয় আলাদা করুন। নিত্যদিনের ছোটখাটো সমস্যার জন্য অতিরিক্ত টেনশন নেবেন না। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে লিস্ট করুন এবং পর্যায়ক্রমে শেষ করুন।

আবেগ প্রকাশ করতে শিখুন। রাগ হলে দেয়ালে আলতো ঘুষি বা হাউ-মাউ করে কাঁদুন। কারো ওপর রাগ ঝাড়া সবসময় নিজের জন্য ক্ষতিকর, তাই আগে শান্ত হোন। হাসিও মনের শান্তির জন্য জরুরি।

অন্যকে সব সময় সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলতে শিখলে মানসিক স্বস্তি পাবেন। অপ্রয়োজনীয় দায়িত্ব এড়িয়ে চলুন। এছাড়া পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে হাসাহাসি, খোশগল্প বা ছেলেমেয়ের মাথায় হাত বুলানো—এগুলো মনের স্বস্তি বৃদ্ধি করে। ভালোবাসা প্রকাশ করুন, এটি মানসিক শক্তি বাড়াবে।

আরও পড়ুন  বায়ুদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কী করবেন

টিভি বা সিনেমা দেখলেই শরীর-মন শিথিল হবে এমন নয়। বরং দরজা বন্ধ করে আধ ঘণ্টার জন্য শুয়ে লম্বা দম নিয়ে শরীর শিথিল করুন। কল্পনা ব্যবহার করে নিজের চিন্তা ও দেহকে নিয়ন্ত্রণ করুন। প্রতিদিন এই অভ্যাস মেনে চললে ঈর্ষা ও টেনশন কমে যাবে এবং নিজেকে আরও শক্তিশালী ও সুখী মনে হবে।