সম্প্রতি দেশের ভূ-তাত্ত্বিক গবেষকরা বাংলাদেশে একটি নতুন সক্রিয় ভূ-ফাটলরেখা চিহ্নিত করেছেন, যা পূর্বে জনসমক্ষে পরিচিত ছিল না। এই ফাটলরেখা বাংলাদেশের জামালপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা দিয়ে শুরু হয়ে পশ্চিমদিকে বিস্তৃত হয়ে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছায়। মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০০ কিলোমিটার।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ফাটলরেখার কিছু অংশ ভূমিকম্প-প্রবণ, এবং ভবিষ্যতে এর থেকে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরো ফাটলরেখার মধ্যে কোন অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ফাটলরেখাটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—এক অংশে ঝুঁকি বেশি, এক অংশে ঝুঁকি কম, এবং একটি অংশে ঝুঁকি নেই।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, ফাটলরেখা থাকা মানেই সর্বদা ভূমিকম্প হবে এমন নয়। তবে নতুন এই ফাটলরেখা বাংলাদেশে ভূমিকম্প-ঝুঁকি নির্ধারণের মানচিত্রকে আরও বিস্তৃত করেছে। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকা, পুরনো বা দুর্বল কাঠামোর স্থান এবং জনবসতির কাছাকাছি এলাকা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
এই আবিষ্কার দেশের ভূতাত্ত্বিক গবেষণা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফাটলরেখার অবস্থান এবং তার ভূমিকম্প-প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করতে অতিরিক্ত জরিপ, স্যাটেলাইট ম্যাপিং এবং ভূগর্ভ-চাপ পরিমাপ প্রয়োজন।
গবেষকরা আশা করছেন, এই নতুন তথ্য দেশের পরিকল্পনাকারী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে ভূমিকম্প-সহনশীল প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।