জাহান্নামের আগুনে প্রথমে পুড়বে যারা

লেখক: ডিএল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

কিয়ামতের দিন সবাই আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিটি মানুষের আমলের হিসাব নেবেন। এই ভয়ঙ্কর দিনের শুরুতে তিন ধরনের মানুষকে প্রথমে জাহান্নামে টেনে নিক্ষেপ করা হবে, এমন বর্ণনা দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)।

প্রথম শ্রেণি: নামের জন্য জিহাদকারী
প্রথমে আনা হবে এমন একজন ব্যক্তি, যিনি জিহাদ করেছেন। আল্লাহ তাকে তাঁর দেওয়া নিয়ামতগুলো দেখাবেন এবং জিজ্ঞাসা করবেন, সে এগুলো নিয়ে কী আমল করেছে। ব্যক্তি উত্তর দেবে, যে সে আল্লাহর পথে লড়াই করেছে এবং শহীদ হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাকে জানাবেন, সে মিথ্যা বলেছে—কারণ সে লড়াই করেছে শুধু লোকের চোখে সাহসী দেখানোর জন্য। এরপর সেই ব্যক্তি মুখের ওপর টেনে জাহান্নামে ফেলা হবে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, যে লড়ে যাতে আল্লাহর কালিমা সবচেয়ে উঁচু হয়, সে-ই আল্লাহর পথে। নাম-যশের জন্য লড়াই বা লুটের স্বার্থের জন্য করা জিহাদ আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮১০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৯০৮)

দ্বিতীয় শ্রেণি: নামের জন্য ইলম ও কোরআনের হাফেয
দ্বিতীয়জন হবে এমন একজন আলেম, যিনি ইলম শিখেছেন, শিখিয়েছেন এবং কোরআন তিলাওয়াত করেছেন। আল্লাহ তাকে নিয়ামতগুলো দেখাবেন এবং জিজ্ঞাসা করবেন, সে কী আমল করেছে। আলেম উত্তর দেবে যে, সে আল্লাহর জন্য ইলম শিখেছে ও কোরআন পাঠ করেছে। কিন্তু আল্লাহ জানাবেন, সে মিথ্যা বলেছে—কারণ তার কাজ লোকের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ছিল, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়। এরপর তাকেও মুখের ওপর টেনে জাহান্নামে পাঠানো হবে।
এটি আমাদের জন্য সতর্কবার্তা, বিশেষ করে আজকের সময়ে, যারা দ্বীনের পোশাক পরে কিন্তু জীবনে তা অনুসরণ করে না। কোরআন পড়া বা ইলমের মর্যাদা কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন তা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪২৩)

তৃতীয় শ্রেণি: নামের জন্য ধনী
তৃতীয়জন হবে এমন একজন ধনী ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সব ধরনের সম্পদ দিয়েছেন। আল্লাহ দেখাবেন, সে এই নিয়ামতগুলোকে কীভাবে ব্যবহার করেছে। ব্যক্তি উত্তর দেবে, সে সব খরচ করেছে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু আল্লাহ জানাবেন, তার খরচ শুধু লোকের প্রশংসা পাওয়ার জন্য হয়েছিল। এরপর তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৬৮৮)

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের ইমাম প্রশিক্ষণে সহায়তা দিতে আগ্রহী সৌদি আরব

হাদিসের সারমর্ম:
ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এটি রিয়া বা লোক দেখানোর গুনাহের ভয়াবহতা ও শাস্তির কঠোরতা প্রমাণ করে। সব আমলেই ইখলাস বা খাঁটি নিয়ত বাধ্যতামূলক।
জিহাদ, ইলম বা দানের প্রশংসা কেবল তাদের জন্য যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা করে। নাম-যশ, লোকের প্রশংসা বা দুনিয়ার স্বার্থের জন্য করা আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।