‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধাক্কা সামলাতে স্মার্ট মানবসম্পদ দরকার’ বিষয়ক গোল টেবিল

লেখক: ডিএল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি জরুরি: ডিসিসিআই গোল টেবিল

ঢাকা: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব সামলাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। টেকসই উন্নয়নের জন্য কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। এডিসি উত্তরণের পর বর্হিবিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিকল্প নেই। এজন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সে (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে মানব সম্পদ উন্নয়ন’ বিষয়ক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং বর্হিবিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আর কোনো ভবিষ্যতের ধারণা নয়; এটি ইতিমধ্যেই আমাদের জীবন, কাজের ধরন ও অর্থনীতিতে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট প্রযুক্তি, বিপুল তথ্যভান্ডার, ব্লকচেইন ও ইন্টারনেট কর্মক্ষেত্রের কাঠামো পাল্টে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এলডিসি পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্মার্ট মানবসম্পদই হবে বাংলাদেশের প্রধান ভরসা। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্যানুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক চাকরির বাজারের এক-চতুর্থাংশ বদলে যাবে। যারা নতুন প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় পিছিয়ে থাকবে, তারা ঝুঁকিতে পড়বে।”

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, প্রয়োজন প্রযুক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা ও সৃজনশীল চিন্তাধারা। তিনি বলেন, “দেশে প্রায় ১৭৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সীমিত। ফলে চাহিদাসম্পন্ন স্নাতকরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন, আর শিল্পখাত দক্ষ জনবল সংকটে ভুগছে।”

মানবসম্পদ ঘাটতি পূরণে প্রযুক্তিনির্ভর বিভাগ চালু, যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। ডিসিসিআই ইতিমধ্যেই দেশি-বিদেশি ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং বেসরকারি খাতের কর্মীদের আপস্কিলিং ও রি-স্কিলিং কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন  পরিবেশ বান্ধব খাতে বিপুল বিনিয়োগে আগ্রহী চিন

তাসকীন আহমেদ বলেন, “দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নই বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে অবস্থান শক্তিশালী করার মূল চাবিকাঠি।”