xr:d:DAFeLcAhF8Q:4,j:5349796909,t:23052408
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। তাকে এখন করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৮০ বছর বয়সী এ প্রবীণ রাজনৈতিক নেত্রী বার্ধক্যজনিত দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিল রোগে ভুগছেন। এ অবস্থায় তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর প্রতি দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্বেগ, হাসপাতালে ভিড়
চেয়ারপারসনের হঠাৎ অবনতিশীল শারীরিক অবস্থার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উদ্বেগে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সন্ধ্যায় এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
“অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়”— জানান মির্জা ফখরুল
বাদ জুমা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন—
“বেগম খালেদা জিয়া আবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ডাক্তাররা জানিয়েছেন তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাময়। আমরা দলের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছি, যাতে আল্লাহর রহমতে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে জনগণের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য তিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, কারাভোগ করেছেন। আজও সেই সংগ্রামের মধ্যেই তিনি অসুস্থ শরীরে লড়াই করছেন। আমরা দেশবাসীর কাছে তার রোগমুক্তির জন্য পুনরায় দোয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল
বিএনপি মহাসচিব জানান, খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় রাজধানীসহ সারা দেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নয়াপল্টনের মসজিদে নামাজ আদায় করে দলীয় নেতারা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন।
সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানেও তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুটি ফুলের তোড়া পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা গুলশানস্থ চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তোড়াগুলো পৌঁছে দেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ফুল গ্রহণ করেন।
হাসপাতাল ভর্তি এবং চিকিৎসার সাম্প্রতিক ইতিহাস
গত ২৩ নভেম্বর রাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, ফুসফুস ও চোখের নানা জটিলতাসহ দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবরও তিনি একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
গত জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হয়। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি তার পুত্র তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে থাকেন। অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে ধারাবাহিক চিকিৎসা শেষে তিনি গত ৬ মে দেশে ফেরেন।